আলিম আল রাজি 'র হ-য-ব-র-ল মার্কা ব্লগ

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বই পড়ার সময় সাবধান। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। আমি সব সময়ই বিখ্যাত ছিলাম, কিন্তু এত দিন সবাই জানত না। লেডি গাগা, আমেরিকান পপশিল্পী।। যদি আপনার পিতা-মাতার কোনো সন্তান না থাকে, তাহলে আপনারও নিঃসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিক ক্যাভেট, সাবেক আমেরিকান টিভি উপস্থাপক।। ঈশ্বর রোগ সারান কিন্তু সম্মানী নেন ডাক্তার। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, আমেরিকান রাজনীতিবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী।। প্রলোভনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো তার বশবর্তী হওয়া। অস্কার ওয়াইল্ড, অভিনেতা ও সাহিত্যিক।। ভুল করার পরও কেউ হাসার অর্থ হলো, সে ইতিমধ্যে দোষ চাপানোর মতো অন্য কাউকে পেয়ে গেছে। রবার্ট ব্লক, সাহিত্যিক।। আমি অনেক বছর যাবৎ আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিনি। আমি তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাই না। রডনি ডেঞ্জারফিল্ড, আমেরিকান কৌতুকাভিনেতা।। একজন পুরুষ বিয়ের আগ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থাকে এবং বিয়ের পর সে শেষ হয়ে যায়। সা সা গাবুর, হাঙ্গেরিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী।। সবার হৃদয়ে নিজের নামটি লিখুন, মার্বেল পাথরের দেয়ালে নয়। চার্লস স্পার্জান, ব্রিটিশ লেখক।। শুধু দালমা আর জিয়াননিনাই আমার বৈধ সন্তান, বাকিরা সবাই আমার অর্থ ও ভুলের ফসল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।। কোনো পুরুষ যদি স্ত্রীর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেয়, তাহলে হয় গাড়িটা নতুন অথবা তার নতুন বিয়ে হয়েছে। প্রিন্স ফিলিপ, ব্রিটেনের রাজপুত্র।। আমি শিশুদের ভালোবাসি। কারণ আপনারা জানেন কি না জানি না, আমি নিজেও শিশু ছিলাম একসময়। টম ক্রুজ, হলিউড অভিনেতা।। জীবনের সব কাক্সিত বস্তুই হয় অবৈধ, কিংবা নিষিদ্ধ, কিংবা চর্বিযুক্ত, কিংবা ব্যয়বহুল, নয়তো বা অন্য কারও স্ত্রী। গ্রুশো মাক্স, সাহিত্যিক।। যতক্ষণ আপনি কোনো ছেলেকে অপছন্দ করবেন, সে আপনার জন্য তার সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকবে। যখন আপনি তাকে ভালোবাসতে শুরু করবেন, ততণে সে তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিয়ন্স নোয়েলস, মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী।। আমার একটা অ্যালার্ম ঘড়ি আছে। মজার বিষয় হলো, সেটা কোনো আওয়াজ করে না। এটা আলো দেয়। যতই সময় যেতে থাকে, সেটি ততই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে থাকে। একপর্যায়ে আলোর চোটে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার সেই অ্যালার্ম ঘড়িটার নাম জানালা। জে লেনো, মার্কিন কৌতুক অভিনেতা।। আমাকে একটি গিটার দাও, আমি সেটা বাজাব। আমাকে একটি মঞ্চ দাও, আমি গাইব। আমাকে একটি অডিটরিয়াম দাও, আমি তা পরিপূর্ণ করে দেব। এরিক ক্যাপটন, সংগীতজ্ঞ।। আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে আমি কখনো প্রেমে পড়িনি, কয়েকবার পা রেখেছিমাত্র। রিটা রুডনার, মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী ও লেখিকা।। অবিবাহিত পুরুষদের ওপর উচ্চহারে কর বসানো উচিত। তারা কেন অন্যদের চেয়ে সুখে থাকবে? অস্কার ওয়াইল্ড, আইরিশ লেখক ও কবি।। বিয়ে হলো কল্পনার কাছে বুদ্ধির পরাজয়। দ্বিতীয় বিয়ে হলো আশার কাছে অভিজ্ঞতার পরাজয়। স্যামুয়েল জনসন, ব্রিটিশ লেখক।। বিয়ে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মতোই প্রাকৃতিক, অযৌক্তিক এবং ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লিসা হফম্যান, অভিনেতা ডাসটিন হফম্যানের স্ত্রী।। বুকমার্ক কেনার জন্য ডলার খরচ করার দরকার কী? ডলারটাকেই বুকমার্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। স্টিভেন স্পিলবার্গ, চলচ্চিত্র পরিচালক।। আমার মনে হয়, যেসব পুরুষের কান ফুটো করা, তারা বিয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। কারণ, তারা ব্যথা সহ্য করেছে এবং অলংকারও কিনেছে। রিটা রুডনার, আমেরিকান কৌতুকাভিনেত্রী, লেখিকা ও অভিনেত্রী।। ডায়েটের প্রথম সূত্র হলো : খাবারটা যদি তোমার খেতে খুব ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই জিনিসটা তোমার জন্য তিকর হবে। আইজ্যাক আজিমভ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকার।। আমার জন্মের পর আমি এত অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে পাক্কা দেড় বছর কথাই বলতে পারিনি। গ্রেসি অ্যালেন, মার্কিন কৌতুকাভিনেত্রী।। আমি কোনো দিন বিখ্যাত হতে পারব না। আমি কিচ্ছু করি না। কিছুই না। আগে দাঁত দিয়ে নখ কাটতাম। এখন তা-ও করি না। ডরোথি পার্কার, আমেরিকান রম্যলেখিকা।। আমি কখনোই আমার স্কুলকে আমার শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে দিইনি। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। সত্যবাদিতাই সর্বোত্তম পন্থা, যদি না আপনি একজন অসাধারণ মিথ্যেবাদী হতে পারেন। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। আলস্য পুরোপুরিভাবে তখনই উপভোগ করা সম্ভব, যখন হাতে প্রচুর কাজ থাকে। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। যখনই টিভিতে পৃথিবীর সব অনাহারি ও দরিদ্র শিশুকে দেখি, কান্না ধরে রাখতে পারি না। মনে হয়, ইশ, আমার ফিগারটাও যদি ওই রকম হতো। মারায়া ক্যারি, সংগীতশিল্পী।। সুষম খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খাদ্য। ফ্র্যান লেবোউইটজ, মার্কিন লেখক।। ধূমপান মৃত্যু ডেকে আনে। যদি আপনার মৃত্যু ঘটে, তাহলে জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আপনি হারাবেন। ব্রুক শিল্ডস, অভিনেত্রী।। বক্সিংয়ে এ পর্যন্ত ইনজুরি, মৃত্যু-দুটোই হয়েছে। কোনোটিই তেমন মারাত্মক ছিল না। অ্যালান মিন্টার, বক্সার।। অন্যের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সব সময় যাওয়া উচিত। তা না হলে তারাও আপনার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আসবে না। ইয়োগি বেরা, বেসবল খেলোয়াড়।। এমন কাজ তোমার করার দরকার নেই, যেটা আগামীকাল অন্যের ঘাড়ে এমনিতেই চাপবে। ডেভিড ব্রেন্ট, অভিনেতা।। আমাকে কোনো প্রশ্ন কোরো না, তাহলে আমাকেও কোনো মিথ্যা বলতে হয় না। ওলিভার গোল্ডস্মিথ, আইরিশ লেখক ও কবি।। মডেলরা হলো বেসবল খেলোয়াড়দের মতো। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিপুল অর্থের মালিক হই, কিন্তু বয়স ৩০ হতে না হতেই আবিষ্কার করি যে আমাদের উচ্চশিক্ষা নেই, কোনো কিছু করারই যোগ্যতা নেই। কিন্তু আমরা খুবই বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এমন সময় সবচেয়ে বুদ্ধির কাজ হলো কোনো মুভিস্টারকে বিয়ে করে ফেলা। সিন্ডি ক্রাফোর্ড, মডেল।। ফিলাডেলফিয়ার পথঘাট খুবই নিরাপদ। শুধু মানুষই সেগুলোকে অনিরাপদ বানিয়ে রেখেছে। ফ্রাংক রিজো, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার সাবেক মেয়র।। সব সময় মনে রাখবেন, আপনি অনন্য। ঠিক আর সবার মতো। মার্গারেট মেড, নৃতত্ত্ববিদ।। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাগের মাথায় কখনো বাচ্চাদের মারবেন না। আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কখন মারব? মনে যখন আনন্দ থাকে তখন? রোজেইন বার, লেখক।। টেলিভিশন আমার কাছে খুবই শিক্ষামূলক। বাড়ির সবাই যখন টেলিভিশন দেখে, আমি তখন অন্য ঘরে গিয়ে বই পড়তে শুরু করি। গ্রুশো মার্ক্স, কৌতুকাভিনেতা।। হাল ছেড়ো না। একটা ডাকটিকিটকে দেখো। নিজ গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত তা একটি খামের সঙ্গেই লেগে থাকে। জশ বিলিংস, লেখক।। কেউ মহৎ হয়েই জন্মায়, কেউ অনেক চেষ্টা করে মহৎ হয়। বাকিরা পাবলিক রিলেশন অফিসারদের ভাড়া করে। ড্যানিয়েল জে বুরর্স্টিন, ইতিহাসবিদ।। বাস্তব ও কল্পকাহিনির মধ্যে পার্থক্য হলো, কল্পকাহিনিকে সব সময় যুক্তিপূর্ণ হতে হয়। টম ক্যান্সি, লেখক।। অস্ট্রেলিয়ার মানুষের অন্যতম প্রিয় শখ হচ্ছে কবিতা না পড়া। ফিলিস ম্যাকগিনলে, লেখক।। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য মানুষের ব্লাডারের সহ্যমতার সমানুপাতিক হওয়া উচিত। আলফ্রেড হিচকক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক।।



.

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

শাওনকে একটু শান্তিতে থাকতে দিন প্লিজ

মন্তব্যঃ টি মন্তব্যঃ . . 54 টি .


আমি কেবল হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়তে চেয়েছিলাম। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে কোনো অক্ষর ব্যবসায়ীর লেখা না। তাই গত পাঁচ দিন ধরে কোন পত্রিকা পড়িনা। বাসায় হকার যেভাবে পত্রিকা দিয়ে যায় সেভাবেই পড়ে থাকে। খুলেও দেখিনা একবার।

কিন্তু পত্রিকা না পড়লেও আজকাল আর কোনোকিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়না। ফেসবুকে একবার ঢু মারলেই বুঝা যায় কোথায় কী ঘটছে না ঘটছে।
হুমায়ূন আহমেদ স্যারের চলে যাওয়ায় সবারই মন খারাপ ছিলো। থাকাটাই স্বাভাবিক। সবার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেই সেটা বোঝা যাচ্ছিলো।
কিন্তু গত দুই দিন ধরে অনেকের কথাবার্তাই অন্য দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।

বাঙালি সবকিছুকে উৎসবে পরিণত করে ফেলতে পারে। কথাটা সত্য।
প্রাথমিক শোকটা কেটে যাবার আগেই হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুকে এখন সবাই মেহের আফরোজ শাওনকে অপমান করার উৎসব বানিয়ে ফেলেছে। ফেসবুকে স্যারের মৃত্যু নিয়ে ১০ টা স্ট্যাটাস থাকলে এর মধ্যে ৬ টাতেই থাকে শাওনকে গালাগালি। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীল মানুষগুলোও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। যে যেভাবে পারছে শাওনকে তুলাধুনা করছে। কেউ সুশীলতার মুখোশটা খুলতে পারছেনা বলে আকারে ইঙ্গিতে আর কেউ সরাসরি গালাগালি করে। কী অশ্লীল উৎসব!

যে মানুষটা এতোটা দিন স্যারের সাথে ছিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্যারের হাত ধরে ছিলেন তাকে এক ঝটকায় সবাই খলনায়ক বানিয়ে ফেলছে। পুরো ব্যপারটাতে ঘি ঢালছে আমাদের অতি উৎসাহী মিডিয়াগুলো।

প্রথম শুনা অভিযোগটা ছিলো এরকমঃ শাওন বিজনেস ক্লাস টিকিটের জন্য ঝামেলা করছেন। তিনি গো ধরে বসে আছেন বিজনেস ক্লাস টিকিট ছাড়া তিনি আসবেন না। শাওনের গো ধরার কারণেই স্যারের দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়েছে।
খবরটা প্রথম প্রকাশ করেছিলো এননিউজ নামের একটা অখ্যাত অনলাইন পত্রিকা। আমাদের ফেসবুক পেজ আর কিছু কপি পেস্ট ব্লগারের কল্যানে কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।
দেখলাম অভিযোগটা শুনে এটার সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই সবাই মাতামাতি শুরু করে দিলো। ব্লগে আর ফেসবুকে শাওনের চৌদ্দ গোস্টি উদ্ধারের দায়ীত্ব নিয়ে নিলো সবাই। মনে হচ্ছিলো সবাই অপেক্ষাই করছিলো এরকম একটা খবরের জন্য যেটা পেলে সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়া যাবে সদ্য স্বামী হারা এই মানুষটার উপর।

এন নিউজের খবরটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। অনেক কাছের মানুষই থাকেন নিউইউর্কের বাংলা কমিউনিটিতে। প্রায় সবাইকে জিজ্ঞেস করেছি এটার সত্যতার ব্যাপারে। সবাই অস্বিকার করেছে যে এমন কিছু তারা শুনেননি। তাঁরা কেউ কিছু জানলো না, জানলো শুধু এন নিউজ আর মানব জমিন টাইপ পত্রিকাগুলো। তাঁরা আবার রিপোর্ট করেছে 'বাংলা কমিউনিটিতে তোলপাড়'। সম্ভবত এই টাইপ পত্রিকাগুলো নতুন কোনো বাংলা কমিউনিটি আবিষ্কার করে বসে আছে।
আর শাওন যদি বিজনেস ক্লাস টিকেট চেয়েও থাকেন তাহলে কি খুব অপরাধ করে ফেলেছেন তিনি? ছোট ছোট দুইটা বাচ্চাকে নিয়ে ইকোনোমি ক্লাসে এয়ার জার্ণি কতো কষ্ট সেটা কেবল যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাঁরাই জানেন। তারউপর শাওন ছিলেন মানষিক ও শারীরিকভাবে যথেষ্ট বিপর্যস্ত। 
* [কিছু খবর নিশ্চিত হয়ে আরো কিছু তথ্য যোগ করা হবে]

আরেকটা অভিযোগ শোনা যায়। সেটা হলো শাওন নাকি কোন সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছেন। সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।
সদ্য স্বামীহারা একজন মানুষের কাছ থেকে কেনো সবাই এতো স্বাভাবিক আচরণ প্রত্যাশা করছেন একটু বলবেন কী? আমাদের মিডিয়াগুলো কী ধরনের সেটা সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবার ধারনা আছে। এরা পিলখানা থেকে মাত্র প্রাণ নিয়ে বের হওয়া মানুষকে জিজ্ঞেস করে 'আপনার এখন কেমন লাগছে?'
স্যারের মৃত্যুর পর বেশ ভালোই খবর ব্যবসা করেছে আমাদের মিডিয়াগুলো। অসংখ্য টিভি চ্যানেল, অসংখ্য পত্রিকা, অসংখ্য সাংবাদিক। নিউইয়র্কে স্যারের মৃতদেহের ছবি তোলা নিয়ে কীরকম হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিলো সেটা আন্দাজ করা যায় দেশে আসার পর স্যারকে নিয়ে করা টিভিগুলোর কান্ডকীর্তি দেখে।
আমার প্রশ্ন হলো এতোসব দেখে শাওন কীভাবে শান্ত থাকতে পারেন? আমরা শুধু মানুষটার কাজ দেখছি কেনো? কেনো দেখছিনা তাঁর শোক আর আবেগগুলোকে। শোকে স্তব্ধ একজন মানুষের স্বাভাবিক থাকাটাই তো অস্বাভাবিক। তাই না?


দেশে আসার পর শুরু হলো নতুন বিতর্ক - কোথায় সমাধীস্থ করা হবে এটা নিয়ে। আমাদের অতি উৎসাহী মিডিয়ার কল্যানে জানতে পারলাম স্যারের পরিবার দুভাগ হয়ে গেছে এই ইস্যুতে। এক ভাগে শিলা, নোভা এবং অন্যরা। আর অন্যভাগে শাওন একা। শাওন চাচ্ছেন কবর দেয়া হোক নুহাশ পল্লীতে। বাকিরা চাচ্ছেন বুদ্ধিজীবি কবরাস্তানে।
পত্রিকায় পাওয়া গেলো স্যারের সাক্ষাৎকার। যেখানে তিনি বলেছেন মৃত্যুর পর যেনো তাকে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা না হয়। ব্যাস! আমাদের আর পায় কে!
শাওন কেনো চাচ্ছেন নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হোক - এই প্রশ্ন করার সাথে সাথে নিয়ে আসলাম আরো একগাদা অপ্রাসঙ্গিক ব্যাপার। যেগুলোর বেশীরভাগই খুব অশ্লীল।
আমরা কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছি যে স্যারের সাক্ষাতকারটাই ছিলো তাঁর শেষ ইচ্ছা? এর পরে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেননি এটাই বা ধরে নিচ্ছি কেনো? স্যারের সাথে একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন শাওন। স্যার শেষ সময়ে কিছু বললে সেটা শাওনেরই জানার কথা, আর কারো জানার কথা না।

শাওন একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন নুহাশ পল্লিতে দাফন করার জন্য। এটা তাঁর অপরাধ না। এটা তাঁর অধিকার। কারণ খুব খারাপ সময়ে তিনিই একমাত্র স্যারের পাশে ছিলেন। আর কেউ খোজও নেননি। শেষ জীবনে খুব নিঃসংগ জীবন যাপন করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। প্রিয় কন্যাদের কাছে পাবার জন্য ব্যাকুল ছিলেন তিনি। অনেকে বলেন শাওন কাছে আসতে দেন নি তাঁদেরকে। না। সেটা ভুল। কন্যারাই কাছে আসেন নি স্যারের কাছে। প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া স্যারের এই লেখাটা থেকেই ধারণা করা যায় সেটা। তিনি লিখেছেনঃ
যেদিন আমি আমেরিকা রওনা হব, সেদিনই সে আমেরিকা থেকে তিন মাসের জন্য দেশে এসেছে। আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। একবার ভাবলাম, বলি—মা, অনেক দিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি। ফিরব কি না, তা-ও জানি না। এক শিশি গায়ের গন্ধ দিয়ে দাও। বলা হলো না।
আমার তিন কন্যাই দূরদ্বীপবাসিনী। ওরা এখন আমাকে চেনে না, হয়তো আমিও তাদের চিনি না। কী আর করা? কে সারা সারা!


নুহাশ পল্লীতে স্যার সমাহিত হতে চেয়েছিলেন এটা শুধু শাওনের কথা না। নুহাশপল্লীর সহকারী ব্যবস্থাপক নুরুল হক-এর কথা থেকেও এর সত্যতা মেলে। তিনি বলেছেন,
‘আমাদের তিনি (হুমায়ূন আহমেদ) প্রায়ই ওই লিচুবাগানের কথা বলতেন, যেন মৃত্যুর পর তাঁকে সেখানে কবর দেওয়া হয়।’

অনেকের অভিযোগ শাওন অতি অভিনয় করেছেন। হাসি পাচ্ছে এই কথাগুলো শুনে। শাওন অতি উচু মাপের একজন অভিনেত্রী। তিনি অভিনয় করলে সেটা অভিনয়ই হতো। অতিঅভিনয় না। আসল শাওনকেই দেখেছেন আপনি। অতিঅভিনয় মনে হলে সেটা আপনারই সমস্যা। শাওনের না।

নুহাশ পল্লী স্যারের নিজের হাতে গড়া। নুহাশ পল্লীর প্রতি ইঞ্চি মাটি স্যারের চেনা। সেখানে থাকলেই তিনি শান্তিতে থাকবেন।
আর বাঙ্গালীর আবেগ খুব ক্ষণস্থায়ী। বুদ্ধিজীবি কবরাস্তানে সন্ধ্যার পর মদ গাজার আসর বসে প্রতিদিন। সরকার কিছুই করতে পারেনা সেখানে। সুতরাং সেখানে সমাহিত হওয়ার চেয়ে স্যারের নিজের হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে সমাহিত হওয়াই কি বেশি যুক্তিযুক্ত না?

অশ্লীল কথাগুলো নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। অনেকে ভবিষ্যত বলে দিচ্ছেন জ্যোতিষির মতো। শাওনের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামী করছেন তাঁরা। সেগুলো নিয়ে কথা বলতেও রুচিতে বাধছে।

শুধু একটা ব্যাপার বলি- অনেককে বলতে শুনলাম নুহাশ পল্লীর মালিকানা নেবেন শাওন নিজে।
যারা এ কথা বলেছেন তাঁদের মুখে ছাই ঢেলে দিয়েছেন শাওন নিজেই। আজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজে দেখলাম তিনি বলছেন, "হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লী আমাকে লিখে দিয়ে যান নি। আসলে কাউকেই দিয়ে যান নি। এটা সরকারী ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।"


২।
কেউ কেউ বললেন শাওন আর হুমায়ূন আহমেদের সংসারে ঝগড়া হতো। অনেক 'প্রেশারে' রাখতেন শাওন হুমায়ূন আহমেদকে। তাদেরকে আমার পালটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে - আচ্ছা কোন পরিবারে ঝগড়া হয় না? কোন পরিবারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয় না বলতে পারেন?
কাউকে প্রশ্নটা করবো না। একটা সত্য গল্প শোনাই বরং।
      বাংলাদেশের একজন লেখকের বাসা। সেই বাসার ডায়েনিং টেবিলে বসে আছেন কয়েকজন গেস্ট, লেখকের স্ত্রী এবং লেখক নিজে। টেবিলে নানা রকম খাবারের আয়োজন। লেখকের স্ত্রী নিজেই রান্না করেছেন সব।
এই বাসায় কখনো গরুর মাংস রান্না করা হয়না কারণ লেখকের হার্টের অসুখ। একবার বাইপাস সার্জারীও হয়েছে তাঁর। ডাক্তারের কড়া নিষেধ- কোনোভাবেই গরুর মাংস খাওয়া যাবে না।
কিন্তু আজ লেখকের স্ত্রী গরুর মাংস রান্না করেছেন। লেখকের জন্য না, গেস্টদের জন্য।
গরুর মাংস লেখকের প্রিয় খাবারগুলোর একটি। টেবিলে মাংস দেখে খুব করুন দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন লেখক। স্ত্রীর নজর এড়ালোনা ব্যাপারটা। তিনি আস্তে করে উঠে দাঁড়িয়ে লেখকের কাছে গেলেন। মমতাভরা কন্ঠে বললেন, "গরুর মাংস খেতে পারছোনা বলে খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? কিন্তু তুমি গরুর মাংস খেতে পারছোনা বলে আরেকজনের যে সহস্রগুন বেশি কষ্ট হচ্ছে এটা কি তুমি জানো? আমি তোমার খুব প্রিয় আরো ২২ রকমের রান্না করেছি আজ। তোমার নিশ্চয়ই সেগুলো ভালো লাগবে।"
স্ত্রীর কথা শুনে হেসে দিলেন লেখক। সামনে থাকা ২২ রকম খাবার থেকে একটা মুখে দিলেন তিনি।

গল্প শেষ।
উপরের গল্পটিতে লেখকের চরিত্রে যিনি ছিলেন তাঁর নাম হুমায়ূন আহমেদ। আর লেখকের স্ত্রীর চরিত্রে যিনি ছিলেন তাঁর নাম মেহের আফরোজ শাওন।


৩।
লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে অনেক। শেষ করছি। তবে শেষ করার আগে স্যারের একটা বই-এর উৎসর্গ পত্রের কথা না লিখে পারছি না। বইটির নাম 'নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ'। স্যার লিখেছেন -
"কেমোথেরাপী হলো একটি দীর্ঘ বেদনাদায়ক নিঃসঙ্গ ভ্রমন। যে তরুণী আমার এই ভ্রমন সহনীয় করার জন্য শক্ত হাতে আমার হাত ধরেছে তাঁর নাম শাওন। আমার দুই পূত্র নিনিত ও নিশাতের মমতাময়ী মা। 'নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ' বইটি এই তরুণির জন্য। যে করুণা, মমতা ও ভালোবাসা সে আমাকে দেখিয়েছে পরম করুনাময় যেনো তাঁর বহুগুন তাঁকে ফেরত দেন। এই শুভ কামনা।"

প্রিয় শাওন,
পরম করুণাময় আপনাকে বহুগুন মমতা ও করুনা ফেরত দেবেন। এ আমার দৃড় বিশ্বাস। ভালো থাকুন অনেক অনেক।


 
টেমপ্লেট ডিজাইন আলিম আল রাজি | ব্যাক্তিগত ব্লগসাইট খেয়ালিকা'র জন্য খেয়ালিকা | যোগাযোগ