আলিম আল রাজি 'র হ-য-ব-র-ল মার্কা ব্লগ

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বই পড়ার সময় সাবধান। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। আমি সব সময়ই বিখ্যাত ছিলাম, কিন্তু এত দিন সবাই জানত না। লেডি গাগা, আমেরিকান পপশিল্পী।। যদি আপনার পিতা-মাতার কোনো সন্তান না থাকে, তাহলে আপনারও নিঃসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিক ক্যাভেট, সাবেক আমেরিকান টিভি উপস্থাপক।। ঈশ্বর রোগ সারান কিন্তু সম্মানী নেন ডাক্তার। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, আমেরিকান রাজনীতিবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী।। প্রলোভনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো তার বশবর্তী হওয়া। অস্কার ওয়াইল্ড, অভিনেতা ও সাহিত্যিক।। ভুল করার পরও কেউ হাসার অর্থ হলো, সে ইতিমধ্যে দোষ চাপানোর মতো অন্য কাউকে পেয়ে গেছে। রবার্ট ব্লক, সাহিত্যিক।। আমি অনেক বছর যাবৎ আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিনি। আমি তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাই না। রডনি ডেঞ্জারফিল্ড, আমেরিকান কৌতুকাভিনেতা।। একজন পুরুষ বিয়ের আগ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থাকে এবং বিয়ের পর সে শেষ হয়ে যায়। সা সা গাবুর, হাঙ্গেরিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী।। সবার হৃদয়ে নিজের নামটি লিখুন, মার্বেল পাথরের দেয়ালে নয়। চার্লস স্পার্জান, ব্রিটিশ লেখক।। শুধু দালমা আর জিয়াননিনাই আমার বৈধ সন্তান, বাকিরা সবাই আমার অর্থ ও ভুলের ফসল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।। কোনো পুরুষ যদি স্ত্রীর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেয়, তাহলে হয় গাড়িটা নতুন অথবা তার নতুন বিয়ে হয়েছে। প্রিন্স ফিলিপ, ব্রিটেনের রাজপুত্র।। আমি শিশুদের ভালোবাসি। কারণ আপনারা জানেন কি না জানি না, আমি নিজেও শিশু ছিলাম একসময়। টম ক্রুজ, হলিউড অভিনেতা।। জীবনের সব কাক্সিত বস্তুই হয় অবৈধ, কিংবা নিষিদ্ধ, কিংবা চর্বিযুক্ত, কিংবা ব্যয়বহুল, নয়তো বা অন্য কারও স্ত্রী। গ্রুশো মাক্স, সাহিত্যিক।। যতক্ষণ আপনি কোনো ছেলেকে অপছন্দ করবেন, সে আপনার জন্য তার সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকবে। যখন আপনি তাকে ভালোবাসতে শুরু করবেন, ততণে সে তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিয়ন্স নোয়েলস, মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী।। আমার একটা অ্যালার্ম ঘড়ি আছে। মজার বিষয় হলো, সেটা কোনো আওয়াজ করে না। এটা আলো দেয়। যতই সময় যেতে থাকে, সেটি ততই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে থাকে। একপর্যায়ে আলোর চোটে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার সেই অ্যালার্ম ঘড়িটার নাম জানালা। জে লেনো, মার্কিন কৌতুক অভিনেতা।। আমাকে একটি গিটার দাও, আমি সেটা বাজাব। আমাকে একটি মঞ্চ দাও, আমি গাইব। আমাকে একটি অডিটরিয়াম দাও, আমি তা পরিপূর্ণ করে দেব। এরিক ক্যাপটন, সংগীতজ্ঞ।। আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে আমি কখনো প্রেমে পড়িনি, কয়েকবার পা রেখেছিমাত্র। রিটা রুডনার, মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী ও লেখিকা।। অবিবাহিত পুরুষদের ওপর উচ্চহারে কর বসানো উচিত। তারা কেন অন্যদের চেয়ে সুখে থাকবে? অস্কার ওয়াইল্ড, আইরিশ লেখক ও কবি।। বিয়ে হলো কল্পনার কাছে বুদ্ধির পরাজয়। দ্বিতীয় বিয়ে হলো আশার কাছে অভিজ্ঞতার পরাজয়। স্যামুয়েল জনসন, ব্রিটিশ লেখক।। বিয়ে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মতোই প্রাকৃতিক, অযৌক্তিক এবং ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লিসা হফম্যান, অভিনেতা ডাসটিন হফম্যানের স্ত্রী।। বুকমার্ক কেনার জন্য ডলার খরচ করার দরকার কী? ডলারটাকেই বুকমার্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। স্টিভেন স্পিলবার্গ, চলচ্চিত্র পরিচালক।। আমার মনে হয়, যেসব পুরুষের কান ফুটো করা, তারা বিয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। কারণ, তারা ব্যথা সহ্য করেছে এবং অলংকারও কিনেছে। রিটা রুডনার, আমেরিকান কৌতুকাভিনেত্রী, লেখিকা ও অভিনেত্রী।। ডায়েটের প্রথম সূত্র হলো : খাবারটা যদি তোমার খেতে খুব ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই জিনিসটা তোমার জন্য তিকর হবে। আইজ্যাক আজিমভ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকার।। আমার জন্মের পর আমি এত অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে পাক্কা দেড় বছর কথাই বলতে পারিনি। গ্রেসি অ্যালেন, মার্কিন কৌতুকাভিনেত্রী।। আমি কোনো দিন বিখ্যাত হতে পারব না। আমি কিচ্ছু করি না। কিছুই না। আগে দাঁত দিয়ে নখ কাটতাম। এখন তা-ও করি না। ডরোথি পার্কার, আমেরিকান রম্যলেখিকা।। আমি কখনোই আমার স্কুলকে আমার শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে দিইনি। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। সত্যবাদিতাই সর্বোত্তম পন্থা, যদি না আপনি একজন অসাধারণ মিথ্যেবাদী হতে পারেন। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। আলস্য পুরোপুরিভাবে তখনই উপভোগ করা সম্ভব, যখন হাতে প্রচুর কাজ থাকে। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। যখনই টিভিতে পৃথিবীর সব অনাহারি ও দরিদ্র শিশুকে দেখি, কান্না ধরে রাখতে পারি না। মনে হয়, ইশ, আমার ফিগারটাও যদি ওই রকম হতো। মারায়া ক্যারি, সংগীতশিল্পী।। সুষম খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খাদ্য। ফ্র্যান লেবোউইটজ, মার্কিন লেখক।। ধূমপান মৃত্যু ডেকে আনে। যদি আপনার মৃত্যু ঘটে, তাহলে জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আপনি হারাবেন। ব্রুক শিল্ডস, অভিনেত্রী।। বক্সিংয়ে এ পর্যন্ত ইনজুরি, মৃত্যু-দুটোই হয়েছে। কোনোটিই তেমন মারাত্মক ছিল না। অ্যালান মিন্টার, বক্সার।। অন্যের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সব সময় যাওয়া উচিত। তা না হলে তারাও আপনার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আসবে না। ইয়োগি বেরা, বেসবল খেলোয়াড়।। এমন কাজ তোমার করার দরকার নেই, যেটা আগামীকাল অন্যের ঘাড়ে এমনিতেই চাপবে। ডেভিড ব্রেন্ট, অভিনেতা।। আমাকে কোনো প্রশ্ন কোরো না, তাহলে আমাকেও কোনো মিথ্যা বলতে হয় না। ওলিভার গোল্ডস্মিথ, আইরিশ লেখক ও কবি।। মডেলরা হলো বেসবল খেলোয়াড়দের মতো। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিপুল অর্থের মালিক হই, কিন্তু বয়স ৩০ হতে না হতেই আবিষ্কার করি যে আমাদের উচ্চশিক্ষা নেই, কোনো কিছু করারই যোগ্যতা নেই। কিন্তু আমরা খুবই বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এমন সময় সবচেয়ে বুদ্ধির কাজ হলো কোনো মুভিস্টারকে বিয়ে করে ফেলা। সিন্ডি ক্রাফোর্ড, মডেল।। ফিলাডেলফিয়ার পথঘাট খুবই নিরাপদ। শুধু মানুষই সেগুলোকে অনিরাপদ বানিয়ে রেখেছে। ফ্রাংক রিজো, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার সাবেক মেয়র।। সব সময় মনে রাখবেন, আপনি অনন্য। ঠিক আর সবার মতো। মার্গারেট মেড, নৃতত্ত্ববিদ।। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাগের মাথায় কখনো বাচ্চাদের মারবেন না। আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কখন মারব? মনে যখন আনন্দ থাকে তখন? রোজেইন বার, লেখক।। টেলিভিশন আমার কাছে খুবই শিক্ষামূলক। বাড়ির সবাই যখন টেলিভিশন দেখে, আমি তখন অন্য ঘরে গিয়ে বই পড়তে শুরু করি। গ্রুশো মার্ক্স, কৌতুকাভিনেতা।। হাল ছেড়ো না। একটা ডাকটিকিটকে দেখো। নিজ গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত তা একটি খামের সঙ্গেই লেগে থাকে। জশ বিলিংস, লেখক।। কেউ মহৎ হয়েই জন্মায়, কেউ অনেক চেষ্টা করে মহৎ হয়। বাকিরা পাবলিক রিলেশন অফিসারদের ভাড়া করে। ড্যানিয়েল জে বুরর্স্টিন, ইতিহাসবিদ।। বাস্তব ও কল্পকাহিনির মধ্যে পার্থক্য হলো, কল্পকাহিনিকে সব সময় যুক্তিপূর্ণ হতে হয়। টম ক্যান্সি, লেখক।। অস্ট্রেলিয়ার মানুষের অন্যতম প্রিয় শখ হচ্ছে কবিতা না পড়া। ফিলিস ম্যাকগিনলে, লেখক।। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য মানুষের ব্লাডারের সহ্যমতার সমানুপাতিক হওয়া উচিত। আলফ্রেড হিচকক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক।।



.

সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১১

রস+আলো-তে "লাইভ টেলিকাস্ট"

মন্তব্যঃ টি মন্তব্যঃ . .

সল কাজ করেছেন গোলাম কিবরিয়া রনি। আমি কেবল তার বক্তব্যকে টাইপ করেছি। চ্যানেল আইতে ঐ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন জিল্লুর রহমান, আর রস+আলোরটার সঞ্চালক আমাকে ধরা যায় ;) (যদিও লেখায় নাম আসে নি। ব্যাপার না। কবি বলেছেন নামে কী আসে যায়? হোয়্যাট ইন এ নেম?)
জিল্লুর রহমানের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রস+আলো-র সম্পাদক সিমু নাসের। সাথের "প্রতিক্রিয়া" শীর্ষক রিপোর্টটি প্রথম আলোর।

আমাদের প্রিয় আবুল হোসেন কীভাবে যোগাযোগমন্ত্রী হলেন, সেই গল্প আমরা অনেকেই জানি না। কিংবা জানি না ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর টিভিতে মুখ দেখানোর কসরতের গল্প। সেই না-জানা চমৎকার গল্পগুলোই বলেছেন পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনী। ১৮ অক্টোবর চ্যানেল আইয়ের টক শো ‘তৃতীয় মাত্রা’র ২৯৯৪তম পর্বে তিনি অবিশ্বাস্য এই গল্প শুনিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি শুনিয়েছেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে আবুল হোসেনের বর্তমান মনোভাব। এ বিষয়ে তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে গোলাম মাওলা রনীর কথোপকথনের পুরোটাই রস+আলোর পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো।




একজনের যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার গল্প

গোলাম মাওলা রনী: তিনি কীভাবে মন্ত্রী হয়েছেন, যদি সে কাহিনি শুনেন। ইটস এ প্রধানমন্ত্রীর একটা গিফট, শোনা যায়।
সঞ্চালক (জিল্লুর রহমান): আপনি জানেন?
গোলাম মাওলা রনী: হ্যাঁ, অবশ্যই জানি।
জিল্লুর রহমান: শোনাবেন?
অবশ্যই আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। সেটা হলো এই যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। সম্ভবত ২০০৫ অথবা ৬ সালে—আপনার মনে আছে—উনি একবার চীন ভ্রমণে গেলেন। চীন ভ্রমণে যাওয়ার পরে ওখানে হ্যান্দো নামে একটা প্রভিন্স আছে। সেখানে একটা লেক আছে। ওয়েস্ট লেক। তো, আপনাদের জানা আছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী—তাঁর ভেতরে একটা সরলতা কাজ করে। অনেকের সাথে বসে তিনি গান শুরু করেন, আলাপ-আলোচনা করেন। পারিবারিক একটা আবহ সৃষ্টি হয়, এ রকম একটা ব্যাপার।
তো, ওয়েস্ট দ্বীপে ওই পরিবেশে গিয়ে হঠাৎ করে তাঁর কী মনে হলো, তিনি বললেন যে, একটা বাঁশি ম্যানেজ করো তো। তো, সাম হাউ একটা বাঁশি ম্যানেজ করা হলো। সাথে সাবের হোসেন চৌধুরী ছিলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব ছিলেন আর আমাদের আবুল হোসেন সাহেবও ছিলেন। তো, প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, আমি বাঁশিতে একটা ফুঁ দেব। তোমরা তিনজন দৌড় দিয়ো। দৌড়ে যে ফার্স্ট হবে তাকে আমি মন্ত্রী বানাব।
এখন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওবায়দুল কাদের, সাবের হোসেন চৌধুরী দৌড় দিলেন। কিন্তু আবুল হোসেন টুক ইট ভেরি সিরিয়াসলি। সে জোরে দৌড় দিল এবং দৌড়ে সত্যিই সে ফার্স্ট হয়ে গেলেন। এসে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলতেছেন যে, আপনি কমিটমেন্ট করেছেন, আমাকে মন্ত্রী বানাবেন। আমি যোগাযোগমন্ত্রী হব।
তো, প্রধানমন্ত্রী যতই বারবার বলেন না কেন যে, আমি তোমার সঙ্গে দুষ্টামি করেছি, আমি এখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। আগামীতে ক্ষমতায় আসব কি না-আসব, তার কোনো ইয়ত্তা নাই, কী সব কথাবার্তা বলো? তিনি বলেন যে, না, আপনি হবেন এবং আমাকে কথা দিতে হবে যে, যোগাযোগমন্ত্রী বানাবেন।
এবং তিনি এমপি হওয়ার পরে সেই জিনিসটা আবার প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করাইয়া দিছেন। কমিটমেন্টের কথা বলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। এই হলো তার যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার সত্যিকারের ইতিহাস। এর বাইরে যে সমস্ত কথাবার্তা বলছেন, যা কিছু বলছেন; দিস ইজ নট দ্য রিয়েলিটি। আমরা তো কাছাকাছি থাকি, আমরা জানি।
মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী নিজেকে এমনভাবে চেনেন যে, আমরা তাঁকে ওইভাবে চিনি না। যেমন, সংসদে আমরা যখন প্রশ্ন করি তখন উনি উত্তর দেন এবং সকলের নাম, আরবি নাম এবং সেটার বাংলা অর্থ কী, সেটা উনি অনেকক্ষণ বসে বসে ব্যাখ্যা দেন। সমস্ত সংসদে তিনি ঠাট্টা-মশকরা করেন। উনি বোঝেন না যে, ওনাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হচ্ছে। উনি মনে করেন, সব মানুষ যে হাসাহাসি করছে, মনে হয় তাঁর প্রশংসাই করছে। এই একটা ব্যাপার।
এবং আপনি আরও আশ্চর্য হয়ে যাবেন এটা বললে যে, আরও ছয়-সাত মাস আগে একদিন আমায় বললেন যে, রনী, সারা পৃথিবীতে ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার মিনস বিমান মন্ত্রণালয় তার আন্ডারে থাকবে, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তার আন্ডারে থাকবে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যেটা, সেটাও তার আন্ডারে থাকবে। আমি যে এত কাজগুলো করতেছি, সেগুলো এত দক্ষতার সঙ্গে যে, এই সব কাজ করার পরও আমার হাতে প্রচুর সময়। বিমান চালাতে পারছে না? না পারলে আমাকে দিয়ে দিক। যদি নৌপরিবহনমন্ত্রী ওই মন্ত্রণালয় না চালাতে পারেন, আমাকে দিয়ে দিন; আমি সবগুলো চালাব। কীভাবে কাজ করতে হয়, আমি দেখাইয়া দিতে চাই। আজ থেকে ছয় মাস আগে এই হলো তাঁর অনুভূতি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর টিভিতে মুখ দেখানোর গল্প

আগের দুই পাতায় আপনারা শুনেছেন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের দৌড়ে ফার্স্ট হয়ে মন্ত্রী হওয়ার গল্প। এবার শুনুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়ার টিভিতে মুখ দেখানোর গল্প। এই গল্প পড়িলে আপনি জানিতে পারিবেন কী করিলে সামান্য বুদ্ধির জোরে বারবার টিভিতে মুখ দেখানো যায়, যদিও উপায়গুলো বাতলে দিয়েছিলেন পটুয়াখালী-৩ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ গোলাম মাওলা রনীই। আবুলের মন্ত্রী হওয়ার অতিনাটকীয় গল্পের তোড়ে যদিও মো. শাহজাহান মিয়ার এই গল্প খুব বেশি প্রচার পায়নি, তবে বাজি ধরে বলা যায়, এই গল্পও আপনাকে কম আনন্দ দেবে না। এ বিষয়ে তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে গোলাম মাওলা রনীর কথোপকথনের পুরোটাই রস+আলোর পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো।

দেখা গেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নমিনেশন দিয়ে চমক দিলেন। আমাদের মতো নতুন লোকজনদের নমিনেশন দিলেন। তো, সবাই পাস করে আসল। এটা একটা বড় সাকসেস ছিল তার জন্য। এখন আমরা নতুন যারা আসছি তারা কে কতটা ভালো করছি এটা আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে আর কি। এর আগে বোঝা যাবে না।
দ্বিতীয়ত যেটা হলো, এই যে মন্ত্রিপরিষদে যাঁরা মন্ত্রী হলেন, এটা তাঁদের জন্য একটা আশ্চর্য বিষয় ছিল। এটা তাঁরা কখনো স্বপ্নে কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা মন্ত্রী। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন।
যেদিন মন্ত্রিপরিষদে শপথ হয়, সেদিন এক মিনিট আগেও কিন্তু কেউ জানত না কে হচ্ছেন কে হচ্ছেন না। এবং কয়জন মন্ত্রী হবেন সে অনুযায়ী চেয়ার দেওয়া হলো এবং প্রত্যেকটা চেয়ারের সামনে নাম দেওয়া হলো।
এখন দলে যাঁরা সিনিয়র নেতা, তাঁরা প্রথমে খুব স্ব-উৎসাহে চেয়ারের দিকে এগিয়ে গেলেন। যাওয়ার পর দেখেন যে সেখানে তাঁদের নাম নেই। বিমর্ষভাবে তাঁরা ফিরে এলেন। এসে দেখলেন যে তাঁদের জন্য চেয়ার খালি নেই। তাঁরা যে বসবেন সে অবস্থা নেই। তাঁরা এগিয়ে গেলেন। বিচারপতিদের যে চেয়ার খালি ছিল, সেখানে গিয়ে বসলেন।
আমার জেলাতে মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আছেন জনাব শাহজাহান সাহেব। উনি আমাকে সকালবেলা ফোন করে বললেন, বাবা, কী ব্যাপার? আজকে যাবা না?
আমি বললাম, হ্যাঁ চাচা, যাব। উনি আবার বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। আমি একটু দুষ্টামি করে বললাম যে, চাচা, আপনার কী হয়েছে আজকে? আপনার কণ্ঠে কেমন যেন মন্ত্রী মন্ত্রী ভাব এসে গেছে।
—বাবা, কও কী?
তারপর তিনি সোজা আমার অফিসে চলে এলেন। বললেন, বাবা, তোমাকে আসল কথা বলি। আমি কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার জন্যই গ্রাম থেকে আসছি এবং তোমার চাচিকেও নিয়ে আসছি। আমি বললাম, তাহলে চলেন, আমরা আগে আগে যাই। তিনিও বললেন, আগে যেতে হবে। কারণ হলো, যেদিন আমরা পার্লামেন্টে ছিলাম ওই দিন টেলিভিশনে তোমার ছবিও দেখা যায়নি, আমার ছবিও দেখা যায়নি। এলাকার লোকজন হাসি-তামাশা করছে। আজকে গিয়ে একটু আগে বসতে হবে, যেন ছবিটা দেখা যায়।
জিল্লুর রহমান (সঞ্চালক): তখনো তিনি কেবিনেট সেক্রেটারির পদ পাননি?
—না, না, কেউ পায়নি। তো, যা হোক, আমরা গেলাম। যাওয়ার পর চাচা এবং আমি একদম সবার আগে গিয়ে বসলাম। তো, বসার পরে যখন মন্ত্রীদের নাম লেখা হলো, তিনি বললেন, বাবা, তুমি দেখে আসো আমার নামটা আছে নাকি।
আমি বললাম, আমি যেতে পারব না, গেলে আমার সিট তো দখল হয়ে যাবে। আপনি কি রাখতে পারবেন? আপনি বুড়া মানুষ।
তিনি বললেন, তুমি আমাকে কী মনে করছ? আমি ৪০ বছর যাবৎ রাজনীতি করি। আমি পৌরসভার মেয়র ছিলাম, এর আগেরবারও মেয়র ছিলাম। তুমি যাও। যা থাকে ভাগ্যে। রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে, তোমার সিট যাবে না। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি গিয়ে দেখলাম তাঁর নাম নাই। এসে বললাম, চাচা, নাম নাই।
তিনি বললেন, কাজটা হলো কী! এখন তোমার চাচিরে ক্যামনে মুখ দেখাব আমি! বরিশাল বিভাগের আর কারও নাম আছে? তোফায়েল ভাই বা অন্য কেউ?
আমি বললাম, না।
তিনি বললেন, এইবার কাজের কাজ হয়েছে। আমি বলব, আমার কী দোষ? তোফায়েল সাহেবেরই হয় নাই, তো আমি কে? ভালো হইছে না?
আমি বললাম, হ্যাঁ।
তো, এইভাবে কতক্ষণ বসে রইলাম। হঠাৎ বললেন, মন্ত্রী হই নাই ঠিক আছে। কিন্তু টেলিভিশনে দেখা যাবে তো?
আমি বললাম, হ্যাঁ, যাবে।
হঠাৎ করে দেখি মুখ কালো তাঁর।
বললাম, কী হইছে? দেখলাম তাঁর সামনে লম্বা কইরা একজন লোক বসছে। আমি ভাবলাম গালিভার ট্র্যাভেলস বসছে। আসলে আমাদের রাজশাহী বিভাগের খায়রুল সাহেব বসছেন।
চাচা বললেন, ও এত লম্বা, আমাকে তো দেখা যাবে না। কী করা যায়?
আমি বললাম, বুদ্ধি আছে। আমাদের চার থেকে পাঁচবার দাঁড়াতে হবে এবং বসতে হবে। যখন দাঁড়ানো হয় তখন আপনি করবেন কি—সবার আগে দাঁড়িয়ে যাবেন। আর যখন বসার দরকার হয় তখন সবার পরে বসবেন। তিনি বললেন, যা বুদ্ধি তোমার! অসুবিধা নাই। হয়ে যাবে।
এখন সেই লোক করেন কি—সবার আগে দাঁড়ান, আর সবার পরে বসেন। সবাই বসার পরেও তিনি আরও ২০-৩০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকেন। লোকজন আরও গালাগালি করছে, এই মিয়া বসেন বসেন।
এই অবস্থা চলছে। তো, চলার পরে আমরা মন্ত্রীসন্ত্রী না হয়ে হোটেলে যখন আসলাম তখন তাঁর স্ত্রী বললেন, আজকেও তো তোমাদেরকে টেলিভিশনে দেখা যায় নাই। চাচা বললেন, কী করব বলো। রনীর কথামতো দাঁড়াইছি সবার আগে, বসছি সবার পরে।
এবং প্রত্যেকটা লোক গালাগালি করে। তার পরেও যদি দেখা না যায়, কী করব বলো?
এখন চিন্তা করেন যে তিনি যদি একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান! এই লোক...
সঞ্চালক (জিল্লুর রহমান): পরে মন্ত্রী হয়েছিলেন তো উনি?
গোলাম মাওলা রনী: ইয়েস। দ্যাট ইস দ্য টক। তিনি যদি পরবর্তীতে একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তিনি কতটুকু পারফরম করতে পারবেন? ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড।





‘ওয়ান অব দ্য বেস্ট স্টোরি’

সঞ্চালক
তৃতীয় মাত্রা

রস+আলো: সাংসদ গোলাম মাওলা রনী যে তৃতীয় মাত্রায় এই গল্প শুনিয়েছিলেন, এটা কি সত্যি?
জিল্লুর রহমান: হ্যাঁ, সত্যি। ওটা ছিল তৃতীয় মাত্রার ২৯৯৪তম পর্ব।
র.আ.: ওই দিন টকশোতে গোলাম মাওলা ছাড়া আর কে ছিলেন?
জিল্লুর: এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক।
র.আ.: আপনি কি গোলাম মাওলা রনী বর্ণিত মন্ত্রী হওয়ার এই গল্প বা ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শাহজাহান মিয়ার গল্প আগে জানতেন?
জিল্লুর: না।
র.আ.: গোলাম মাওলা যে সেদিন এই গল্প বলবেন সে সম্পর্কে জানতেন?
জিল্লুর: না।
র.আ.: তিনি যখন এই গল্প বলেন সেটাকে কি আপনার অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছিল?
জিল্লুর: আসলে, তখন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা মাথায় নিইনি। তিনি যখন কথা বলেন আমি শুনেছি। তিনি সরকারি দলের একজন এমপি। তার কথার মধ্যে মন্ত্রীর কথা এসেছে, প্রধানমন্ত্রীর কথা এসেছে। তিনি জানেন তিনি কী বলছেন। আমার মাথায় ছিল তিনি যেহেতু এসব বলছেন, নিশ্চয়ই দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন। এগুলো যদি সত্যি হয় তবে ঠিক আছে, না হয় নিশ্চয়ই তার কোনো উদ্দেশ্য আছে।
র.আ.: এটা কি তৃতীয় মাত্রায় প্রচারিত এ যাবৎ কালের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনা?
জিল্লুর: তৃতীয় মাত্রা তো নয় বছর ধরে চলছে। তবে আমি মনে করি এটা ‘ওয়ান অব দ্য বেস্ট স্টোরি’।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ  সিমু নাসের




প্রতিক্রিয়া


মঙ্গলবার রাতে টকশোতে এই গল্প বলার পর যথারীতি যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। চায়ের কাপে ঝড় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঝড় উঠেছে ফেসবুক আর ব্লগে। তবে রাজনৈতিক মহলে ঝড় ওঠে যথারীতি ‘লেটে’। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সাংসদ গোলাম মাওলা রনীর উপস্থিতিতেই তাঁর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ সাংসদ।
ওই ঝড় সম্পর্কে গোলাম মাওলা বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমাদের দলের অনেকে টক শোতে যান। তাঁরা হার্ডলি দলকে সাপোর্ট করে কথা বলেন। কিন্তু আমাদের এক ছোট ভাই আছেন, তিনি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, তাতে মন্ত্রীরা হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হন। এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাঁশির গল্পও বলেছেন”।’
গোলাম মাওলা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, কে টক শোতে বাঁশির গল্প বলেছে? তখন আমি বলি, আমি বলেছি। তখন প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘তুমি এই গল্প কার কাছে শুনেছ?’ আমি বলি, অমুকের কাছে শুনেছি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তুমি পুরোপুরি সঠিক শোনোনি। ওই দৌড় প্রতিযোগিতা লেকের পাড়ে নয়, সেটা হয়েছিল একটা স্পোর্টস স্কুলে। আর তাতে সম্ভবত সাবের প্রথম হয়েছিল, কিন্তু আমি তো সাবেরকে মন্ত্রী বানাইনি”। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখেই এসব কথা বলছিলেন।’
গোলাম মাওলার বিবরণ অনুযায়ী, এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রনী আমাকে নিয়েও অনেক কথা বলেন। আমি কবিতা লিখি, শেয়ারবাজার ইত্যাদি নিয়ে। কিন্তু রনী কে? আমি তো রনী নামে আমাদের কোনো এমপিকে চিনি না।’ এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রনী আমার পারফরমেন্স নিয়েও কথা বলেছেন।’
অবশ্য অন্য একাধিক সাংসদ বলেছেন, অর্থমন্ত্রী রনীকে ‘স্টুপিড’ বলে মন্তব্য করেছেন। সূত্রগুলো জানায়, এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রনীর শ্বশুর বিএনপি করে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি এমপি হবেন। ওর চিন্তা কী! আর রনী চলে পার্থের (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ) সাথে।’ এই কথাগুলো বলে বৈঠকে উপস্থিত শেখ হেলাল উদ্দিনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পার্থর শ্বশুর বড় নেতা। খালাও নেতা।’
গোলাম মাওলা দাবি করেন, ‘এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার যত বড় আত্মীয়ই হোক না কেন, যারা আমার পরিবারের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, তাঁদের ক্ষমা নেই”।’
সূত্র: প্রথম আলো, ২০ অক্টোবর ২০১১




 
টেমপ্লেট ডিজাইন আলিম আল রাজি | ব্যাক্তিগত ব্লগসাইট খেয়ালিকা'র জন্য খেয়ালিকা | যোগাযোগ