আলিম আল রাজি 'র হ-য-ব-র-ল মার্কা ব্লগ

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বই পড়ার সময় সাবধান। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। আমি সব সময়ই বিখ্যাত ছিলাম, কিন্তু এত দিন সবাই জানত না। লেডি গাগা, আমেরিকান পপশিল্পী।। যদি আপনার পিতা-মাতার কোনো সন্তান না থাকে, তাহলে আপনারও নিঃসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিক ক্যাভেট, সাবেক আমেরিকান টিভি উপস্থাপক।। ঈশ্বর রোগ সারান কিন্তু সম্মানী নেন ডাক্তার। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, আমেরিকান রাজনীতিবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী।। প্রলোভনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো তার বশবর্তী হওয়া। অস্কার ওয়াইল্ড, অভিনেতা ও সাহিত্যিক।। ভুল করার পরও কেউ হাসার অর্থ হলো, সে ইতিমধ্যে দোষ চাপানোর মতো অন্য কাউকে পেয়ে গেছে। রবার্ট ব্লক, সাহিত্যিক।। আমি অনেক বছর যাবৎ আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিনি। আমি তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাই না। রডনি ডেঞ্জারফিল্ড, আমেরিকান কৌতুকাভিনেতা।। একজন পুরুষ বিয়ের আগ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থাকে এবং বিয়ের পর সে শেষ হয়ে যায়। সা সা গাবুর, হাঙ্গেরিয়ান-আমেরিকান অভিনেত্রী।। সবার হৃদয়ে নিজের নামটি লিখুন, মার্বেল পাথরের দেয়ালে নয়। চার্লস স্পার্জান, ব্রিটিশ লেখক।। শুধু দালমা আর জিয়াননিনাই আমার বৈধ সন্তান, বাকিরা সবাই আমার অর্থ ও ভুলের ফসল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।। কোনো পুরুষ যদি স্ত্রীর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেয়, তাহলে হয় গাড়িটা নতুন অথবা তার নতুন বিয়ে হয়েছে। প্রিন্স ফিলিপ, ব্রিটেনের রাজপুত্র।। আমি শিশুদের ভালোবাসি। কারণ আপনারা জানেন কি না জানি না, আমি নিজেও শিশু ছিলাম একসময়। টম ক্রুজ, হলিউড অভিনেতা।। জীবনের সব কাক্সিত বস্তুই হয় অবৈধ, কিংবা নিষিদ্ধ, কিংবা চর্বিযুক্ত, কিংবা ব্যয়বহুল, নয়তো বা অন্য কারও স্ত্রী। গ্রুশো মাক্স, সাহিত্যিক।। যতক্ষণ আপনি কোনো ছেলেকে অপছন্দ করবেন, সে আপনার জন্য তার সর্বস্ব ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকবে। যখন আপনি তাকে ভালোবাসতে শুরু করবেন, ততণে সে তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। বিয়ন্স নোয়েলস, মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী।। আমার একটা অ্যালার্ম ঘড়ি আছে। মজার বিষয় হলো, সেটা কোনো আওয়াজ করে না। এটা আলো দেয়। যতই সময় যেতে থাকে, সেটি ততই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হতে থাকে। একপর্যায়ে আলোর চোটে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার সেই অ্যালার্ম ঘড়িটার নাম জানালা। জে লেনো, মার্কিন কৌতুক অভিনেতা।। আমাকে একটি গিটার দাও, আমি সেটা বাজাব। আমাকে একটি মঞ্চ দাও, আমি গাইব। আমাকে একটি অডিটরিয়াম দাও, আমি তা পরিপূর্ণ করে দেব। এরিক ক্যাপটন, সংগীতজ্ঞ।। আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে আমি কখনো প্রেমে পড়িনি, কয়েকবার পা রেখেছিমাত্র। রিটা রুডনার, মার্কিন কৌতুক অভিনেত্রী ও লেখিকা।। অবিবাহিত পুরুষদের ওপর উচ্চহারে কর বসানো উচিত। তারা কেন অন্যদের চেয়ে সুখে থাকবে? অস্কার ওয়াইল্ড, আইরিশ লেখক ও কবি।। বিয়ে হলো কল্পনার কাছে বুদ্ধির পরাজয়। দ্বিতীয় বিয়ে হলো আশার কাছে অভিজ্ঞতার পরাজয়। স্যামুয়েল জনসন, ব্রিটিশ লেখক।। বিয়ে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার মতোই প্রাকৃতিক, অযৌক্তিক এবং ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লিসা হফম্যান, অভিনেতা ডাসটিন হফম্যানের স্ত্রী।। বুকমার্ক কেনার জন্য ডলার খরচ করার দরকার কী? ডলারটাকেই বুকমার্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। স্টিভেন স্পিলবার্গ, চলচ্চিত্র পরিচালক।। আমার মনে হয়, যেসব পুরুষের কান ফুটো করা, তারা বিয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। কারণ, তারা ব্যথা সহ্য করেছে এবং অলংকারও কিনেছে। রিটা রুডনার, আমেরিকান কৌতুকাভিনেত্রী, লেখিকা ও অভিনেত্রী।। ডায়েটের প্রথম সূত্র হলো : খাবারটা যদি তোমার খেতে খুব ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই জিনিসটা তোমার জন্য তিকর হবে। আইজ্যাক আজিমভ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিকার।। আমার জন্মের পর আমি এত অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে পাক্কা দেড় বছর কথাই বলতে পারিনি। গ্রেসি অ্যালেন, মার্কিন কৌতুকাভিনেত্রী।। আমি কোনো দিন বিখ্যাত হতে পারব না। আমি কিচ্ছু করি না। কিছুই না। আগে দাঁত দিয়ে নখ কাটতাম। এখন তা-ও করি না। ডরোথি পার্কার, আমেরিকান রম্যলেখিকা।। আমি কখনোই আমার স্কুলকে আমার শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে দিইনি। মার্ক টোয়েন, সাহিত্যিক।। সত্যবাদিতাই সর্বোত্তম পন্থা, যদি না আপনি একজন অসাধারণ মিথ্যেবাদী হতে পারেন। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। আলস্য পুরোপুরিভাবে তখনই উপভোগ করা সম্ভব, যখন হাতে প্রচুর কাজ থাকে। জেরোম কে জেরোম, ব্রিটিশ লেখক।। যখনই টিভিতে পৃথিবীর সব অনাহারি ও দরিদ্র শিশুকে দেখি, কান্না ধরে রাখতে পারি না। মনে হয়, ইশ, আমার ফিগারটাও যদি ওই রকম হতো। মারায়া ক্যারি, সংগীতশিল্পী।। সুষম খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো খাদ্য। ফ্র্যান লেবোউইটজ, মার্কিন লেখক।। ধূমপান মৃত্যু ডেকে আনে। যদি আপনার মৃত্যু ঘটে, তাহলে জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আপনি হারাবেন। ব্রুক শিল্ডস, অভিনেত্রী।। বক্সিংয়ে এ পর্যন্ত ইনজুরি, মৃত্যু-দুটোই হয়েছে। কোনোটিই তেমন মারাত্মক ছিল না। অ্যালান মিন্টার, বক্সার।। অন্যের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সব সময় যাওয়া উচিত। তা না হলে তারাও আপনার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আসবে না। ইয়োগি বেরা, বেসবল খেলোয়াড়।। এমন কাজ তোমার করার দরকার নেই, যেটা আগামীকাল অন্যের ঘাড়ে এমনিতেই চাপবে। ডেভিড ব্রেন্ট, অভিনেতা।। আমাকে কোনো প্রশ্ন কোরো না, তাহলে আমাকেও কোনো মিথ্যা বলতে হয় না। ওলিভার গোল্ডস্মিথ, আইরিশ লেখক ও কবি।। মডেলরা হলো বেসবল খেলোয়াড়দের মতো। আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিপুল অর্থের মালিক হই, কিন্তু বয়স ৩০ হতে না হতেই আবিষ্কার করি যে আমাদের উচ্চশিক্ষা নেই, কোনো কিছু করারই যোগ্যতা নেই। কিন্তু আমরা খুবই বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এমন সময় সবচেয়ে বুদ্ধির কাজ হলো কোনো মুভিস্টারকে বিয়ে করে ফেলা। সিন্ডি ক্রাফোর্ড, মডেল।। ফিলাডেলফিয়ার পথঘাট খুবই নিরাপদ। শুধু মানুষই সেগুলোকে অনিরাপদ বানিয়ে রেখেছে। ফ্রাংক রিজো, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার সাবেক মেয়র।। সব সময় মনে রাখবেন, আপনি অনন্য। ঠিক আর সবার মতো। মার্গারেট মেড, নৃতত্ত্ববিদ।। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাগের মাথায় কখনো বাচ্চাদের মারবেন না। আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কখন মারব? মনে যখন আনন্দ থাকে তখন? রোজেইন বার, লেখক।। টেলিভিশন আমার কাছে খুবই শিক্ষামূলক। বাড়ির সবাই যখন টেলিভিশন দেখে, আমি তখন অন্য ঘরে গিয়ে বই পড়তে শুরু করি। গ্রুশো মার্ক্স, কৌতুকাভিনেতা।। হাল ছেড়ো না। একটা ডাকটিকিটকে দেখো। নিজ গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত তা একটি খামের সঙ্গেই লেগে থাকে। জশ বিলিংস, লেখক।। কেউ মহৎ হয়েই জন্মায়, কেউ অনেক চেষ্টা করে মহৎ হয়। বাকিরা পাবলিক রিলেশন অফিসারদের ভাড়া করে। ড্যানিয়েল জে বুরর্স্টিন, ইতিহাসবিদ।। বাস্তব ও কল্পকাহিনির মধ্যে পার্থক্য হলো, কল্পকাহিনিকে সব সময় যুক্তিপূর্ণ হতে হয়। টম ক্যান্সি, লেখক।। অস্ট্রেলিয়ার মানুষের অন্যতম প্রিয় শখ হচ্ছে কবিতা না পড়া। ফিলিস ম্যাকগিনলে, লেখক।। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য মানুষের ব্লাডারের সহ্যমতার সমানুপাতিক হওয়া উচিত। আলফ্রেড হিচকক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক।।



.

মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১১

স্বল্পদৈর্ঘ্য ব্লগীয় সাইন্স ফিকশনঃ আজি হতে ১৫০০ বছর পর (রাজি, রাজসোহান যৌথ প্রযোজনা) ;) :P

মন্তব্যঃ টি মন্তব্যঃ . . 2 টি .

বিজ্ঞান একাডেমীর প্রধান কিটি চিন্তিত মুখে বসে আছেন। মানব সভ্যতা সম্পর্কে তাদের এতোদিনের পুষে রাখা ধারণা একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে। দেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ "সামহোয়ারইনব্লগ" নামক একটা সাইটের লিংক খুঁজে পাওয়ার পরই সব সমস্যার শুরু। একের পর এক আঘাত আসছে বিজ্ঞানীদের উপর। বিজ্ঞানীরা নাকি এতোদিন মানুষকে শুধু ভুল জ্ঞানই দিয়ে যাচ্ছিলো! এই ৩৪৫৬ সালে এসে মানুষ যদি বিজ্ঞানের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে! আর ভাবতে পারলেন না মহামান্য কিটি।
তাঁর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। তিনি মাথা তুলে তাকালেন। দেখলেন তাঁর সামনে বসে আছেন পৃথিবীর বড় বড় সব বিজ্ঞানী। এতোক্ষনে মনে পড়লো মহামান্য কিটির, তিনি এই মহা বিপর্যয় প্রসঙ্গে একটি জরূরী সভা আহবান করেছেন। নাহ, অধিক টেনশনে আজকাল আর কিছু মনে থাকছে না।

তিনি হালকা কাশি দিয়ে উপস্থিত বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষন করলেন। "মহামান্য বিজ্ঞানীরা, আপনারা জানেন পৃথিবী আজ কতো বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আমি সে ব্যাপারে আর নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না, আমরা বরং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান পিকির কাছ থেকেই ঘটনা আরেকবার শুনে আসি।" থামলেন মহামান্য কিটি।

পিকি হালকা ঢোক গিলে বলা শুরু করলেন।
"আমরা কিছুদিন আগে নিয়মিত মহড়ার অংশ হিসাবে ওয়েব লিংক স্টাডি করছিলাম। তখনই আমাদের সামনে হাজির হলো একটি ভাঙ্গাচোরা সাইট। কি আর বলবো! পুরো সাইট জুড়ে ভুতূড়ে পরিবেশ। এখানে সেখানে ছাগল মরে পড়ে আছে। কোনটির মাথা নেই। কোনটির কোমর নেই। পরে আমরা জেনেছি গদাম নামক একটা ট্যাবলেট খেয়ে নাকি তাদের এই অবস্থা। তাছাড়া সাইটের পরিবেশটাকে আরো ভুতুড়ে করে তুলেছে অনেকগুলো তালগাছ। তালগাছ বগলে নিয়ে মরে পড়ে আছেন অনেকেই। তাদের "ক্লান্ত" চেহারায় "হয়রান" হওয়ার ছাপ। মাঝে মাঝে কানে ভেসে আসছে ভৌতিক আর্তনাদ- 'আমাকে আনব্যান করুন। আমাকে আনব্যান করুন। হিহিহি' । যায়গায় যায়গায় পাওয়া গেছে কাদার দাগ। ধারণা করা হচ্ছে ঐ সাইটের বাসিন্দারা মরার আগ মুহূর্তেও কাদা ছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত ছিলেন। দুই পক্ষের কাদার মাঝে পড়েও কেউ কেউ মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। তারা হলেন- জানা, আরিল ও লাভলুদা। সাইটটিতে আসলে ঠিক কি ঘটেছিলো সেটা আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ভালো ধারনা দিতে পারবে।"
এতোটুকু বলে থামলেন মহামান্য পিকি।

মুখ খুললেন বিজ্ঞান একাডেমীর প্রধান।
"দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কথা পরে শোনা যাবে আমরা আপাতত চলে যাচ্ছি জীব বিজ্ঞানী জিলোর কাছে। মহামান্য জিলো, আপনি বলুন। সামহোয়ারইনব্লগ নামক সাইটটি পাওয়ার পর থেকে কিভাবে আপনাদের গবেষনা হুমকির মুখে পড়েছে।"

"কি আর বলবো! জীব বিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের এতোদিনের ধারনা পুরো বদলে যাওয়ার পথে। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে একবিংশ শতকে মানুষ, ছাগল, হাম্বা সবাই সহাবস্থানে ছিলো। রাঝাস প্যাক প্যাক না করে কি চমৎকার ভাবে মানুষের মতো কথা বলতো!"
উপস্থিত সকল বিজ্ঞানীর বিস্ময়ে একবার হা করলেন।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী টিক্রী হাত তুলে বললেন,"শুধু তাই নয়। তালগাছও মানুষের সাথে সহাবস্থানে ছিলো।"

বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ে আরেকবার হা করে হালকা গুঞ্জন শুরু করলেন।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানী টিক্রী আবারো কিছু বলার জন্য উঠে দাড়ালেন। টিক্রী সুন্দরী মহিলা। তাই সব বিজ্ঞানী তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

টিক্রী বললেন,"ধইন্যাপাতা ক্ষেত ছেড়ে সামহোয়ারইনে কি করছিলো সে প্রশ্নের সুরাহা এখনো করতে পারিনি।" উপস্থিত বিজ্ঞানীদের মুখে সহানূভুতি ধ্বনী শোনা গেলো "চুক চুক চুক"। সম্ভবত এই কৃত্রিম সহানুভুতি ছিলো টিক্রিকে খুশি করার চেষ্টা।

মহামান্য কিটি বললেন,"থামুন, আমরা এবার মহামান্য রিকির মুখে ভাষাবিভাগের অভিজ্ঞতা শুনবো।"

"আমি ভাষাহীন মহামান্য কিটি। আমাদের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে ভয়াবহ। আমরা প্রাচীন ভাষারীতি সম্পর্কে একটা সিদ্ধান্তে এসেছি অনেকদিন হলো। কিন্তু সামহোয়ার আবিষ্কারের পর আমাদের সব ধারণা ভেঙ্গে গেছে। আপনারে জেনে অবাক হবেন "সামহোয়ারের" নাম ছিলো সামু! ব্লগের এডমিনদের নাম ছিলো মডু। আরো কতো কি!! আমাদের "ওয়ার্ড এনালাইসার ৭.১" কিছু শব্দ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই শব্দগুলোর মধ্যে লুল, ভাদা, সিটিএন অন্যতম। কিছু কিছু লেখকের লেখাও আমাদের ভাষাবিদদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে হাসান মাহবুব, নৈশচারী, নির্ঝর নৈশব্দ, শিরিষ অন্যতম। আমরা এখনো তাদের লেখা নিয়ে গবেষনা করে যাচ্ছি। তাছাড়া একেকজন লেখককে একেক সময় একেক নামে সম্বোধন করা হতো, যেমন আসিফ-কে আচিপ, নাফিস-কে নাপিষ, নৈশচারীকে ৯০০-৪-ই। ব্লগটা ছিলো লেখার যায়গা। বলার যায়গা না। কিন্তু একজনের নাম দেখলাম 'ভেবে ভেবে বলি'। কি আজব!"

প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান হঠাৎ হাত তুলে বলা শুরু করলেন।
"আমি আপনাদেরকে কিছু এক্সক্লুসিভ তথ্য দিতে চাই।"
উপস্থিত সবাই একটু ঝুঁকে বসলেন।

"আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগের চুল চেরা বিশ্লেষনে কিছু রহস্যময় চরিত্রের সন্ধানও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন ফিউশন ফাইভ। যিনি আবার মাঝে মাঝে নিজেকে ফিউশন রহমান নামে পরিচয় দিতেন। লোকজন উনাকে ডাকতো ফিফা। আপনারা জেনে অবাক হবেন, তৎকালীন সময়ে ফুটবল নামক একটা খেলা বিষয়ক সংঘটনের নামও ছিলো ফিফা। এ থেকেই বোঝা যায় ফিউশন ফাইভ কতো রহস্যময়। এ ধরনের আরো রহস্যময় চরিত্রও পাওয়া গেছে, যেমন: আরিফুর রহমান, নাস্তিকের ধর্মকথা, কৌশিক, সবাক প্রমুখ।"

একটু থেমে আবারো বলা শুরু করলেন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান।
"আমরা সামহোয়ারইন ব্লগ স্টাডি করে তৎকালীন সমাজ ব্যাবস্থা সম্পর্কেও কিছু ধারণা পায়েছি। যা আমাদের আগের ধারনার সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন আলিম আল রাজির "মেয়ে পটানোর সহজ উপায়" নামক পোস্ট দেখে বুঝতে পেরেছি তৎকালীন সমাজে মানুষ অল্প বয়সেই পেঁকে যেতো। কিছু অবাক করা নামেরও অস্তিত্ব পেয়েছি আমরা। যেমন: জুতার ভিতর মোজা, তিনকোনা, চারকোনা, জিকসেস, কি নাম দিবো, । "

পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রধান কিছু বলার জন্য উঠে দাড়ালেন,"আমরা এতোদিন মানুষের দ্বৈত অবস্থান নিয়ে সন্দেহ পোষন করে আসছিলাম। কিন্তু সামহোয়ারইনব্লগে আমরা দেখেছি সেই ২০১০ সালেই মানুষের দুটি অবস্থান নয় ১৫/২০ টি অবস্থানও ছিলো। কি সুন্দর একজন ব্লগার ১৫/২০টা নিক চালিয়েছে সেটা না দেখলে আপনারা বিশ্বাস করবেন না। এক রাতমজুর-এরই এতোগুলো অবস্থান ছিলো যে সেটা আমাদের আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রও ব্যাখ্যা করতে পারছে না।"
বিস্ময়ে উপস্থিত সবার চোয়াল ঝুলে পড়লো।

মহামান্য কিটি আবারো মুখ খুললেন। এখন আমরা শুনবো আধ্যাত্মিকতা বিভাগের প্রধান জেকির কথা।

"জাজাকাল্লাহ খায়রাণ। মহামান্য কিটি! আমাকে কিছু বলতে বলবেন না। আমি বাকরুদ্ধ! আমি কথা বলতে পারছি না। আস্তিক নাস্তিক দ্বন্দে পড়ে আমি নিজেই বুঝতে পারছি না আমি নিজে আস্তিক নাকি নাস্তিক।"
এই বলেই আধ্যাত্মিকতা বিভাগের প্রধান জেকি হাউ মাউ করে কান্না শুরু করলেন। পুরো কক্ষের পরিবেশ হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলো।

মহামান্য কিটি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করলেন আবার।
"সামু ব্লগে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার ঘটে গিয়েছিলো। যার প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের কিছু সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছি। এখন আমি সেগুলো হলোগ্রাফিক স্ক্রীনে দেখাবো।"

কিটি একটি সুইচ অন করলেন। পর্দায় ভেসে আসতে লাগলো কিছু লেখা।

**ব্লগার ইয়াজিদ সেই ২০১০ সালেই বৈজ্ঞানীকভাবে জ্বিনের অস্তিত্ব প্রমান করে গেছেন। সুতরাং আমাদের জ্বিন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো।

**md jakaria অনেক আগেই কম্পিউটার নিয়ে চিন্তা করতে বলে গেছেন। সুতরাং আমাদের সুপার কম্পিউটার "জিকারা ৭" আসলে পরোক্ষভাবে তারই অবদান।

**টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদের ফটোশপ বিষয়ে গবেষনাই আসলে বর্তমান "ফটোলিট(১)" প্রযুক্তির মুল প্রেরণা।

এই পর্যন্ত দেখানো হলো। ঠিক তখনই কনফারেন্স কক্ষের কোনায় বসে থাকা কম বয়সী মেয়েটি ফিক করে হেসে উঠলো। মহামান্য কিটি রেগে উঠলেন,"এই মেয়ে! তুমি হাসছো কেনো। দেখছো না! আমরা সিরিয়াস বিষয়ে কথা বলছি।"

মেয়েটি বললো,"স্যরি মহামান্য কিটি। আমি আসলে আমার মাইক্রো এইচে(২) সামহোয়ারইন ব্লগের একটি ১৮+ রম্য পোস্ট পড়ছিলাম। তাই হেসে উঠেছি।"

মহামান্য কিটি সহ উপস্থিত বিজ্ঞানীদের চোখ ঝিলিক দিয়ে উঠলো। কিটি বললেন,"১৮+! কই! দেখি দেখি! তাড়াতাড়ি দেও তো।"

কিটি মেয়েটির কাছ থেকে মাইক্রো এইচ কেড়ে নিয়ে ১৮+ পোস্ট পড়তে বসে গেলেন। কিছুক্ষন পর দেখা গেলো কক্ষের সবাই তাদের নিজ নিজ মাইক্রো এইচের দিকে চেয়ে আছেন আর একটু পর পর হেসে উঠছেন।




নির্ঘন্টঃ
১. ফটোলিট- ফটোশপের চরম আধুনিক ভার্সন।
২. মাইক্রো এইচ- হলোগ্রাফিক স্ক্রীনের মাইক্রো ভার্সন।


লেখাঃ আলিম আল রাজি।
আইডিয়াঃ রাজসোহান


 
টেমপ্লেট ডিজাইন আলিম আল রাজি | ব্যাক্তিগত ব্লগসাইট খেয়ালিকা'র জন্য খেয়ালিকা | যোগাযোগ